প্রদেশ কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে তিনি ২১ জুলাই শহিদ স্মরণের মূল উদ্দেশ্য ‘নষ্ট’ করেছেন। নেতৃত্ব মনে করিয়েছে, একসময় তাঁর ভূমিকার ফলেই এই দীর্ঘ কর্মসূচি বৃহত্তর মাত্রা পেয়েছিল। শুক্রবার, তারা পোস্টার প্রকাশ করে তৎকালীন বাম আমলের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের ফাইল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে, যাঁর নির্দেশে ১৯৯৩ সালে গুলি চালানো হয়েছিল।
১৯৯৩ সালের (৩৩ বছর আগে) ২১ জুলাই, ভোটার আইডির দাবিতে যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী শহিদ হন। দলের ২১ জুলাই উদযাপন কমিটির কো-অর্ডিনেটর অমিতাভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সেই বড় কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
এক বিবৃতিতে অমিতাভ চক্রবর্তী আরও বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর এই কর্মসূচি আদর্শহীন ইভেন্টে পরিণত হয়েছিল, যা কংগ্রেসের মূল ভিত্তির পরিপন্থী।" তিনি জানান, ২৮ বছর পর কংগ্রেস বিধান ভবনের বাইরে এসে শহিদ মিনারে এই কর্মসূচি পালন করবে এবং রাহুল গান্ধীকেও আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জোর দিয়ে বলেন যে, এই কর্মসূচি শুধু শহিদ-স্মরণ নয়। তাঁর কথায়, "এটি সংবিধান রক্ষা, ছাত্র-যুবকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, শ্রমজীবীর পাশে দাঁড়ানো এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ধারাবাহিক সংগ্রামের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করবে।"
‘মণীশ গুপ্ত ফাইল’ প্রকাশের দাবি জানিয়ে শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, "সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং গুলিচালনার পেছনের প্রকৃত সত্য জানার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে ‘মণীশ গুপ্ত ফাইল' অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।"
২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার জন্য অমিতাভ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ আয়োজক কমিটি গঠিত হবে, যা সকল দিক তদারকি করবে।
২৯ ও ৩০ জুন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শ্রী কে. সি. বেণুগোপাল কলকাতা সফরে আসছেন। সফরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক পর্যালোচনা করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করবেন।